সোমবার, জুন ১, ২০২৬

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে গ্রাম আদালতে যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল

গ্রামের ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তিতে এখন আর দূর আদালতে ছুটতে হবে না। স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত, সহজ ও কম খরচে বিচার পাওয়া যাচ্ছে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে।

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছে গ্রাম আদালত ব্যবস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় গোদাগাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম আদালত সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা।
১৯ মে (মঙ্গলবার)  দুপুর ১২ টায় গোদাগাড়ী উপজেলা হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত এই আদালত স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে। গ্রাম আদালত অনধিক ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে আইনজীবী নিয়োগের কোনো বিধান নেই, ফলে পক্ষগণ নিজেরাই নিজেদের কথা বলতে পারেন।
গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। এখানে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী উভয়েই সমান সুযোগ পান। সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ মেটানো হয় বলে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা বিশেষভাবে উপকৃত হন।
গ্রাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ, অন্যায় নিয়ন্ত্রণ ও আটক, হুমকি দেওয়া, নারীর শালীনতা নষ্ট করা ইত্যাদি অভিযোগের সমাধান করা হয়।
এছাড়াও দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল ও পুনরুদ্ধার, ক্ষতিপূরণ, গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশ, কৃষি শ্রমিকদের মজুরি আদায়, স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ আদায় ইত্যাদি অভিযোগের সমাধান করা হয়।
গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চ আদালতের মামলার চাপও কমায়। মামলার জন্য শুধু নির্ধারিত ফি দিতে হয়, অন্য কোনো খরচ নেই।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এসময় গ্রাম আদালত (ইউএনডিপির) কো-অর্ডিনেটর আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) শামসুল ইসলাম, গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আতিকুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন,সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মানিকসহ সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর
- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ