গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে টপসয়েল নিধন সিন্ডিকেট, অবৈধ মাদক সিন্ডিকেট ও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বলছেন, এসআই জুয়েলের কাছে অনেকেই জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কেউ অবৈধ মাদক ও অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতে মাসোয়ারা দিচ্ছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে দিচ্ছেন।
টপসয়েল নিধন সিন্ডিকেটের সদস্য রহিম (ছদ্মনাম) মোবাইল ফোনে বলেন, তেমন কিছু লয়, ১০/১৫ দিন পর থানায় ঢুকি। ওখানে গেলে ৫ শ, ১ হাজার টাকা দিই জুয়েলকে। আর যা ড্রিল ফাইনাল হয় ওসির সাথে হয়। তবে বর্তমান ওসির সাথে কোনো ড্রিল না করার কথা জানান তিনি। (রেকর্ড সংরক্ষিত)
এছাড়া এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে আটকৃত অরিজিনাল হেরোইন বিক্রি করে তার বদলে নকল মাদক দিয়ে আসামি চালান করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার একাধিক কর্মকর্তা রেকর্ড না করার শর্তে জানান, গত ১০ এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে ভাটোপাড়া এলাকার মাসুদ রানার স্ত্রী আলিয়ারা বেগমকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯ উল্লেখ্যিত আলিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ৮(গ) ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
সূত্রের দাবি, আটকের সময় ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইন উদ্ধার হলেও এর মধ্যে ৯০ গ্রাম বিক্রি করেন এসআই জুয়েল। বাকি ১০ গ্রাম আলামত হিসেবে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। পরে ৯০ গ্রাম মাদক সাদৃশ বস্তু সংগ্রহ করে তা জব্দ দেখানো হয়। গোদাগাড়ী মডেল থানায় গ্রেফতার হওয়া সব অরিজিনাল মাদকই এসআই জুয়েল বিক্রি করেন বলে তারা।
এসব অভিযোগের পাশাপাশি সাফিনা পার্ক থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় এবং দুই পক্ষকে আপোষের কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের সাথে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে ।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
উল্লেখ্য, সংবাদে উল্লেখিত তথ্যগুলো গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
