রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। গত কয়েকদিনে হঠাৎ ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকায়। ইতোমধ্যে ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।
এ সময় তাঁরা ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল সরকার বলেন, “নদী যেভাবে ধেয়ে আসছে, তাতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। ভিটেমাটি হারালে পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, জানি না।”
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, “পৌর এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এ সময় ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে।
