বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

রক্তদান একটি জীবন বাঁচানোর শ্রেষ্ঠ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল

রোগীর জন্য প্রতি ফোঁটা রক্তই মহামূল্যবান।”রক্ত দিলে হয় না ক্ষতি, জাগ্রত হয় মানবিক অনুভূতি” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরছেন চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্তদান যেমন দাতার শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে এক ব্যাগ রক্তই হয়ে উঠতে পারে শেষ ভরসা।

কেন রক্তদান প্রয়োজন? ?
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার ব্যাগ রক্তের চাহিদা রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, কিডনি ডায়ালাইসিস, অস্ত্রোপচার ও প্রসূতি মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরি করা যায় না। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদাতাই ভরসা।

রোগীর ক্ষেত্রে রক্ত কতটা জরুরি?
১. থ্যালাসেমিয়া রোগী:একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত নিতে হয়। সময়মতো রক্ত না পেলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
২. প্রসূতি মা: প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বাংলাদেশে এখনও অনেক মায়ের মৃত্যু হয়। জরুরি মুহূর্তে ১ ব্যাগ রক্তই মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচাতে পারে।
৩. সড়ক দুর্ঘটনা: গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীর শরীর থেকে ২-৩ লিটার পর্যন্ত রক্ত বের হয়ে যেতে পারে। তখন দ্রুত ৪-৫ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।
৪. ক্যান্সার ও অপারেশন: কেমোথেরাপি নেওয়া রোগী এবং বড় অপারেশনের সময় রোগীর শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়। তখন বাইরে থেকে রক্ত দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।

রক্তদাতার উপকারিতা-
বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তি প্রতি ৪ মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। এতে দাতার শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরি হয়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং বিনামূল্যে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া— এই ৫টি রোগের স্ক্রিনিং হয়ে যায়।

গোদাগাড়ী সেবারবাড়ী অর্গানাইজেশনের ও  ব্লাড ডোনার গ্রুপের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে এখনও ৭০% রোগীকে রক্তের জন্য আত্মীয়-স্বজনের উপর নির্ভর করতে হয়। স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়লে ‘রক্তের অভাবে মৃত্যু’ কথাটি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব।

কোথায় রক্ত দেবেন?
সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট, সন্ধানী, বাঁধন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে গিয়ে রক্ত দেওয়া যায়। জরুরি প্রয়োজনে ১৬২৬৩ নম্বরে কল করেও রক্তদাতা খুঁজে নেওয়া যায়।আপনার ১০ মিনিট সময় ও ১ ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে ৩টি জীবন। তাই আসুন, ভয় না পেয়ে নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসি।

সেবারবাড়ী অর্গানাইজেশন প্রতিনিয়ত মুমুর্ষ রোগীদের পাশে থেকে তাদের জীবন রক্ষা করাই।আমি এই অর্গানাইজেশনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

সংশ্লিষ্ট খবর
- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ