পদ্মা নদীর ভাঙনে ফের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কুঠিপাড়া কদমতলা (ইয়াহিয়ার কূপ) এলাকার বাসিন্দারা। নদী তীরবর্তী এ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর ঘেঁষে থাকা বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় রাত-দিন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছরই নদী একটু একটু করে আমাদের জমি খেয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এবার ভাঙন খুব দ্রুত হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন জানি বাড়িঘর নদীতে চলে যায়।”
আরেক বাসিন্দা আজিজুল সরকার বলেন, “পদ্মা থেকে দিন-রাত ট্রলার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালু তোলার কারণেই নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে আমাদের এলাকায় ভাঙন ধরেছে। প্রশাসনকে বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।”
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ফরজেন আলী বলেন, “এই কদমতলা এলাকা আগে অনেক ভিতরে ছিল। বালু তোলার পর থেকে নদী আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কুঠিপাড়া, কদমতলা সহ আশেপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের আমলে বাঁধ নির্মাণ কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।এই এলাকাটি বিএনপি অধ্যুসিত হওয়ায় সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরী এই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ না করে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছিল।আমরা এখন বিএনপি সরকারের কাছে দাবি জানায়, এই বাঁধটি যেন দ্রুত নির্মাণ করা হয়।
